সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চট্টগ্রামে মার্চ ফর জাস্টিস ও সর্বলীগের পরাজয়

 ৩০ জুলাই সিদ্ধান্ত আসে মার্চ ফর জাস্টিসের।

কোটা মুভমেন্টের শুরুতে স্মারকলিপির অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি বলি যে ছাত্রদের কোর্টের গেটে আটকে দেয়া হবে। ছাত্ররা যাতে সিঙ্গেল সিঙ্গেল কোর্টের ভেতর চলে আসে।  কোর্টে ডুকার ৩ টা পথ আছে, সেগুলো নিয়ে ডিটেলস বললাম। ভার্সিটির এলামনাইগুলারে কাজে লাগাতে বলি। বিস্তারিত প্ল্যান দিই।

ঈশা মুনতাসির রাফি ছোটবোন আনিকাসহ আমার পরিচিতরা যখন কোর্টের ভেতর চলে আসে তখন একসাথে এদের কোথাও রাখাটা ঝামেলা তৈরী করবে বুঝতেছিলাম। কিন্তু একটা কনফিডেন্স ছিল কোর্টের ভেতর থেকে কাউকে গ্রেফতার করার কাস্টম নাই, আইন নাই দেখে। সবাইকে নিয়ে গেলাম **** মামার দোকানের দিকে। ওখানে এর আগেও আন্দোলন চলাকালে অনেকে কোর্টে এসে আমার সাথে দেখা করে গেছে। রাফি ঈশাদের নিয়মিত যাতায়াত হয়ে গেছিল। কেউ কেউ ঈশাকে আমার সাথে বিড়ি খেতে দেখে ভেবেছে আরেক ফানি বিষয়।

ঐ সময়ে জায়গাটা আমার আস্থার ছিল বলা যায়। সকাল ১০ টা বেজে গেছে। বিভিন্ন স্টুডেন্টকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোর্টের ভেতর দেখা যাচ্ছিলো। তাদের কজন এসে আমাদের সাথে যুক্ত হয়। সেখানেই ফাতেমা খানম লিজা, বিএনপিকর্মী আনিকা সহ আরো মেয়েরা যুক্ত হয়।।

ছোটবোন আনিকা ওর পরিচিত একজনের সাথে কথা বলতে গেলো।  আমি ২ মিনিটের জন্য গেলাম পাশের এক চেম্বারে। এই ফাঁকে *** মামার দোকানের পাশে যাদের পাইছে (লিজা, বিএনপির আনিকাসহ) তাদেরই নিয়ে চলে গেলো। আমি দৌড়ায়ে এসে দেখলাম রাফি ঈশাসহ আমাদের কয়েকজনকে এক দোকানদার সেইফ করে নিছে। অন্যদের করতে না পারায় আপসোস করতেছে। তখন সকাল শার্ফ ১০ টা। ওরা সেইফ হইছে ব্যাসিকালি বিড়ি খেতে একপাশে গেছিল। নইলে সকালেই ওরা কট!

যাইহোক কোর্টের ভেতরে পরিস্থিতি বদলে গেলো।  বাকিটা আপনারা জানেন।

কোর্টের ভিতর আইনজীবীদের সাথে ছাত্ররা ভিতরে ডুকলো বটে, কিন্তু এটা হয়ে গেলো একটা ফাঁদ। কারণ কোর্টে ডুকার তিনটা পথই পুলিশ ব্লক করে দিলো। লালদিঘিতে, চকবাজারে, টাইগারপাসে, মার্কেটে, কোতোয়ালিতে ছাত্রলীগ জমায়েত হলো। পুলিশ হকারের সবকয়টা পথ ব্লক করলো ও কোর্টের ভিতর (প্রশাসনিক বিকল্প পথে) ব্যপক পুলিশ ডুকলো।

তখনো আমি কে তুমি কে রাজাকার, চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার সহ কিছু সাধারণ স্লোগান চলছিল। রাফি-ঈশাকে ডেকে বললাম স্লোগান পালটাও, সিন চেঞ্জ করতে হবে। কোর্টের দেয়ালসহ নিজেদের করে নিতে হবে। "তোর কোটা তুই নে, আমার ভাইরে ফেরত দে" — ঐ স্লোগানটাই আমার কাছে March to ১ দফা ছিল। আমার লক্ষ্য ছিল March for Justice টাকে March to ১ দফা বানানো, যত দ্রুত সম্ভব। কিন্তু একটা সেতু লাগবে। সেই সেতুটা হবে এই স্লোগান। ঈশা রাফি এ স্লোগান পরপর দিতে থাকলো৷ অন্য অপরিচিতদেরও স্লোগান পাল্টে দিলাম।

এরমধ্যে কোন একটা গ্রুপ সিদ্ধান্ত নিলো মিছিল নিয়ে বেরিয়ে যাবে। তখন বাজে ১২ টা। সাধারণ ছাত্ররা প্যানিকড। কেউ কেউ বুঝতে পারলো এখানে ডিসিশন মেকিংয়ে আমার প্রভাব আছে। তারা অসহায়ের মতন এসে বলল, ভাই মিছিল নিয়ে নাকি বের হয়ে যাবে। বেরুলে তো মাইর খাবো!

জোবায়ের মানিক সহ কয়েকজনের সাথে আমার রাগারাগি হলো। রাফি রাসেল সহ যারা উপস্থিত ছিল নীতি নির্ধারণী সবাইকে জোর গলায় বললাম এখানে আর কোন ডিসিশন হবে না, কোর্ট থেকে একটা ছেলে মেয়েও বেরুবেনা। অনেকে বললো বাইরে অনেক ছেলেপেলে আছে, ইত্যাদি। ছাত্রদলের সেন্ট্রাল কমিটির একজন দেখা করলো, তারেও বললাম মিছিল বাইরে যাবে না।সবাইকে বললাম ওদের কে ভেতরে আসতে বলো। দরকারে ১ জন ১জন করে ডুকবে। এই ডিসিশনের পর পরিষদের জসিম ভাইর নেতৃত্বে একটা মিছিল কোর্টে ডুকে পুলিশের সাথে ঠেলাঠেলি করে।

আমি বুঝতেছিলাম, কোর্ট শুধুই কোর্ট না। এক দেড়শ জজ, অন্তত ৩ শ সিনিয়র লইয়ার (যাদের কারো কারো কল হাসিনা পর্যন্ত রেসপন্স করে) আর Most importantly চট্টগ্রামের সমস্ত সিভিল প্রশাসন কোর্টের ভেতরেই৷ শালারা যাবে কই! আর কোর্ট প্রাঙ্গনে লাশ ফালাবে এটা হইতে পারেনা।  এটা হওয়ার অর্থ আমরা আর কোথাও টিকবো না কিংবা সরকার আর টিকবে না।

বৃষ্টি বাড়তে থাকলো। ছেলেপেলের সংখ্যাও বাড়লো। লইয়াররা বিস্কিট, পানি, সিঙ্গারা, যে যা পারতেছে দিতেছিলো।

বেলা বাড়তেছিলো। কোর্টে ছাত্রদের ভিড় অনাহুত হয়া পরতেছিলো। অনেকের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করতেছিল। এমন সময়ে সৌমাইয়া, ইশা, রিপাদি, তুর্জয়, রাসেল, রাফি, মানিক সহ সমন্বয়করা গোল করে বসলো। আমার টেনশন তখন আমাদের ছত্রভঙ্গ করার কোন সুযোগ আমরা দিতেছি কিনা! ফোকাসের বাইরের এলাকাগুলোতে পোলাপানরে উজ্জীবিত রাখছিলাম। সতর্ক থাকতে বলছিলাম। আমাকে ডাকা হলো কি করা যায় এখন! বললাম, মাইকে বলো যে, সকালে যাদের এরেস্ট করা হয়েছে, তাদের না ছাড়লে আমরা যাবো না। তাদেরকে কোর্ট চত্ত্বরে এসেই ছাড়তে হবে।

আমার মাথায় খেলতেছিলো, আমরা যেমন কোর্টে অবরুদ্ধ, চারদিকে পুলিশ আর ছাত্রলীগ। আমরাও অন্তত পাঁচ হাজার লইয়ার, জজ থেকে শুরু করে ডিসি সব প্রশাসনিক শালাদের পথ আটকে বসে আছি। ফলে বেলা যত বাড়বো তত খেলা জমবো। আমাদের দরকার কালক্ষেপণ করে আমাদের বাইর হওয়ার পথ ক্লিয়ার করা।  এগুলা আমার মাথায় ঘুরতেছিল। কারো সাথে আলাপের কোন সুযোগ হইতেছিল না। কিভাবে এই আলাপগুলা প্রসিড হবে, সেটাও মাথায় ছিল না। জানতাম যে একটা খেলা হবেই...।

যাইহোক কিছুক্ষণ পর রাফি-রাসেল এর নিরাপত্তা সংকটের কথা বলে কিছু লইয়ার ওদের নিয়া গেলো। ওরা নিজেরাও কনফিউজড ছিল যাবে কিনা। সবাই জানতে চাইলো ওরা যাবে কিনা। কোন এক লইয়ারের জুনিয়রের সাথে হট-টক হইলো। পরে বললাম, ওরা কম্ফোর্ট ফিল করলে যাক...!



এরকিছুক্ষণ পর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি নাজিম স্যার আসলেন। সমন্বয়কদের জিগালো তোমরা কি চাও? পোলাপান উত্তর দিতে পারে না। উইয়ার্ড আচরণ করতেছিলো, খারাপ আচরণ পড়তে পারেন। নাজিম স্যারের চোখ মুখ দেখে বুঝতেছিলাম, উনি বুঝতে পারেন নাই, সমন্বয়কদের এ অবস্থা।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল চট্টগ্রাম এর সদস্য সচিব ও নিপীড়নবিরোধী আইনজীবী মঞ্চের অ্যাড আমির আব্বাস তাপু, অ্যাডভোকেট সায়েরা ইয়াসমীন সহ কয়েকজন পাশেই ছিলেন। তাপুদা আমাকে ডাক দিলেন। বললেন, কথা বলো। নাজিম স্যা্কে বললেন, সাইফুর আমাদের ছাত্র সংগঠনের নেতা। আপনি ওর সাথে কথা বলেন। আমি আরেকটু এগিয়ে এসে নাজিম স্যারকে বললাম— স্যার আমি সমন্বয়কদের একজন আর এখানকার শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তিনি এরপর বললেন, তোমরা কি চাও বলতে পারতেছেনা কেন এরা! বললাম, স্যার আমরা চাই যে সকালে এরেস্ট করছে তাদেরকে আমাদের সামনে দিয়ে যেতে হবে। আর বাকি আমরা আলাপ করে জানাচ্ছি। ১০ টা মিনিট সময় দেন।

১০-১৫ মিনিট পর নাজিম স্যার, রাজ্জাক স্যার (তৎকালীন সেক্রেটারি, বর্তমানে জেলা পিপি) সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আসলেন। জানালেন, ওসির সাথে তিনি কথা বলছেন। ওসি জানিয়েছে সকালে ওদের কে ছেড়ে দিছে। আমরা বললাম, স্যার এ কথা ওনাকে এখানে এসে বলতে হবে।

আরো ১০ মিনিট পর নাজিম স্যার আবার আসলেন। বললেন, ওসি ত বলতেছে এখানে আসবেনা। বলতেছে এখানে ছাত্ররা তার সাথে ঝামেলা করবে।

এরমধ্যে নাজিম স্যার ডিসিকে কল করে বলছেন, ছাত্ররা কোর্ট বিল্ডিং দখল করে বসে আছে। আপনার প্রশাসনকে বলেন ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে (You know how the game goes when the lawyers get involved)...

ডিসি পরলো ফাঁফড়ে। ফাঁফড় খায়া সে পালায়ে গেলো সেফ এক্সিট নিলো। সেফ এক্সিট নিয়া সে প্রপোজাল দিলো পুলিশ, ডিসি, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আর ছাত্রদের ৫ প্রতিনিধি নিয়া মিটিং হবে। নাজিম স্যারকে বললেন, আপনি ৫ জন ছাত্র সমন্বয়ককে নিয়ে আসেন।

নাজিম স্যার এসে বললেন, ডিসির ওখানে মিটিং হবে। তোমরা ৫ জন আসো। আর দ্রুত তোমরা কি চাও, ঠিক করো।

এবার দাবি ঠিক করার পালা। সবাইকে বললাম, দাবি বলেন। সবাই সিচুয়েশন টা বুঝতেছিলোনা সামহাউ। আমি বললাম, ১) যাদের এরেস্ট করা হইছে সকালে, তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ছাড়ছে এটার প্রমাণ দেখাতে হবে। ২) আমরা কোর্ট থেকে বেরিয়ে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট যাবো। পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কাউকে হামলা/ গ্রেফতার/ হয়রানি করা যাবে না। বিভিন্ন জায়গায় যে ছাত্রলীগ জমায়েত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তাদেরকে সড়িয়ে নিতে হবে। এই নিশ্চয়তা পুলিশকে দিতে হবে। সিয়াম এলাহী বললো ভাই ব্লক রেইডের বিষয়টা আনেন। তখন ৩ নং দফা ঠিক হইলো, ৩) ব্লক রেইড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

এরমধ্যে আরেক গ্যাঞ্জাম শুরু হলো।
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ব্যারিকেড দিলো। বিএনপির আইনজীবীরা ছাত্র আর আওয়ামীপন্থীদের মাঝখানে দাঁড়ালো। আওয়ামীলীগের নেতা সাবেক পিপি সাইমুন স্যারসহ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নিবৃত করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু সফল হলেন না। আইনজীবীদের ১ জন ছাত্রদের দিকে বোতল মেরে দিলেন। ছাত্ররা গেলো খেপে। একদল জনা দশ পনেরো সুঠাম দেহের তরুণ এগিয়ে এলো লইয়ারদের সাথে মারামারি করবে অবস্থা। আমি এগিয়ে গিয়ে ওদেে হাত চেপে ধরে বললাম, এটা কোর্ট, এখানে লইয়াররাই শেষ কথা।
কোনভাবে সংঘাতে জড়ানো যাবে না। ওদের মানাতে কষ্ট হলো। পরে অন্যদের সাথে রাগারাগি করে বললাম ব্যারিকেড দাও, মারামারি করা যাবে না। বাধ্য হয়ে ঐ সুঠামদেহীরাও ব্যারিকেড ধরলো। পরে ওদের শান্ত করতে বললাম, গা দিয়ে যতদূর ঠেলতে পারো ঠেলো, কিন্তু হাত উঠানো যাবে না। হাত উঠালেই আমাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন শেষ!

এর মধ্যে আমার হাতের কাপল রিং পরে গেলো মেয়েদের ভিড়ে। আমার মন ভার হয়ে গেলো মূহুর্তেই। খুঁজার চেষ্টা করতেই মেয়েরা খুঁজতে লাগলো, ১০ সেকেন্ডেই এক মেয়ে রিংটা হাতে তুলে দিলো। সদ্য ব্রেকাপ এর হ্নদয় আমার শান্ত হলো।

৫ জন সমন্বয়ক, ছাত্র প্রতিনিধি খুঁজে পেতে বেশ ভালো বেগ পেতে হলো আমাদের। একমাত্র সিয়াম এলাহী সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো। রিপাদিকে বললাম চলেন। তূর্জয় বললো ভাই আমি যাবো। আমরা ৩ জন সম্ভবত ২ মিনিট আর ১ জন শিক্ষার্থী/ সমন্বয়ক খুঁজে পাইনাই সে মূহুর্তে। একজন এগিয়ে আসে এর মধ্যে। সম্ভবত চট্টগ্রাম কলেজের কোন শিক্ষার্থী, নামটা মনে করতে পারছিনা। এরপরই আরো একজন এগিয়ে আসে। একজন মোহাম্মদ আলী, অন্যজন আলীকে দেখে একটু পিছিয়ে যায়, সম্ভবত সেও শিবিরের কর্মী৷ আমরা ৫ জন ঠিক করা পর্যন্ত নাজিম স্যাররা একটা টিম দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তুমুল বৃষ্টি। ছাতা নেই।

আমাদের সামনে আইনজীবী সমিতির নেতারা। পিছনে নিপীড়ন বিরোধী আইনজীবি মঞ্চের নেতারা, অ্যাড. আমির আব্বাস তাপু, অ্যাড. সায়েরা আপু, অ্যাড. বিশুময় দেব, অ্যাড. মানিক সাহাদাত। সাথে আরও কয়েকজন।

আমরা জিম্মি হয়ে পরার ভয় ছিল। তদুপরি আমরা গিয়ে দেখলাম, পুরো ডিসি অফিস ৪ দিকে লক করা। এরমধ্যে অ্যাড. সায়েরা আপা থেকে কলম নিয়ে আমি ঐ ৩ দফা দাবি একটা ভিজিটিং কার্ডে লিখে নিলাম।
অনেক ডাকাডাকি করে, নাজিম স্যার ডিসি অফিসের স্টাপদের সাথে রাগারাগি করে গেট খোলালেন। তাও উর্ধ্বতন সিকিউরিটি পার্সন এসে বললো খুলো। তৎকালীন পুলিশের সাউথ এডিসি সহ কয়েকজন আসলেন। আসলেন জেলা প্রশাসকের একজন এডিসি (ডিসি মূলত সেফ এক্সিটে পালাইছে) আর আমরা ৫/৬ জন।

জেলা প্রশাসকের এডিসি বললেন, আপনাদের দাবি বলুন। প্রায় ২০ সেকেন্ডের নীরবতা (কেউ কিছু বলছিল না) ভেঙ্গে নাজিম স্যার আর অ্যাডভোকেট তাপুদা বললেন সাইফুর বলো। আমি দাবিগুলো জানালাম।
পুলিশের এডিসি বললেন, আপনাদের ১ নং দাবি আমরা অলরেডি পূরণ করে ফেলচি। ওদেরকে অভিভাবকের হাতে সকাল ১১ টাতেই ছেড়ে দিছি।
২ নং দাবি আপনারা লোক পাঠিয়ে দেখেন আমার ১ টা পুলিশও কোথাও নেই। এমনকি সারা চট্টগ্রামে কোন ১ প্লাটুন পুলিশও নেই। কল করে দেখেন। আমি বললাম, পুলিশ না থাকা সেটা তো আরো সমস্যা। সব জায়গায় ছাত্রলীগ আছে। সবাইকে সড়াতে হবে।
এডিসি বদ্দা ভালোই নার্ভাস। তিনি বললেন, হ্যা আমি বলে দিচ্ছি। ৫ মিনিটে রোড ক্লিয়ার। (মানে তিনি যে আসলে ছাত্রলীগকে সড়তে বলার কোন অথরিটি না সেটাও ভুলে গেছেন🤐)

৩ নং দাবি নিয়ে বললেন, আমরা তো ন্যায়সঙ্গতভাবে কাউকে এরেস্ট করছিনা, ব্লক রেইড দিচ্ছিনা।
বেচারা এতই নার্ভাস ছিলেন, ভুল করে ""ন্যায়সঙ্গত"" শব্দটা বলে ফেলছে।
আমি বললাম, আজকে থেকে চট্টগ্রামে ব্লক রেইড চলবেনা এবং আমরা নিউমার্কেটে মিছিল নিয়ে এরপর আজকের কর্মসূচি শেষ করবো, এ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না দিলে আমরা কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে সড়বো না।

পুলিশের এডিসি ও ডিসির এডিসি প্রায় একইসময়ে বললেন, আমরা কমিটমেন্ট দিলাম, কোন অন্যায় কিছু হবেনা। আপনারা একটু মাইকিং করে বলেন, যে আমরা দাবি মেনে নিয়েছি। ছাত্ররা যাতে চলে যায়।

তারপর আমরা বিজয় নিয়ে নিচে নামলাম, আইনজীবীদের সাথে ৫/৬ জন ছাত্র। আমাদের প্রায় ২০ ফুট পিছনে পুলিশ। শাপলা ভবনের নিচে দেখলাম কিছু পুলিশ বেশ সতর্ক। আমরা এগুনোর আগেই পেছন থেকে এক অফিসার ওদের সতর্ক করে পিছু যেতে বললো।

বারের মাইকটা সেদিন নষ্ট । পরে পুলিশের মাইক দিয়ে আমরা ছাত্রদের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পরার কথা বলি। আইনজীবীরাও আবার মিছিলের সামনে নেতৃত্ব দিয়ে নিউমার্কেট পর্যন্ত যায়। আমার আর শরীর মানছিলোনা। আমি কোতোয়ালি থেকে ফেরত যাই কোর্টে।

আমি জানি যে আমাকে দ্রুত নিরাপদ স্থান খুঁজতে হবে।
কারণ আমার উপস্থাপিত ৩ দফায় ছাত্ররা সেফ এক্সিট পেয়েছে তা শুধু নয়,
সেদিন পরাজিত হয়েছিলো
১) প্রশাসন লীগ
২) পুলিশ লীগ
৩) ছাত্রলীগ যুব লীগ আওয়ামী লীগ
এমনকি ৪) আইনজীবী লীগও!

রিপাদি, সিয়ামদেরও বললাম স্থান পাল্টে ফেলতে।

★ সেদিন নিউমার্কেট এলাকায় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করলেও পুরো চট্টগ্রামে সে রাতে ব্লক রেইড হয়নি। কোন শিক্ষার্থী গ্রেফতার  হয়নি। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়ার মতন অদ্ভুত ঘটনাও ঘটে! কয়েকজন বিএনপি জামায়াত কর্মী গ্রেফতার হয়েছিল। আর আমি রাতে যে বাসায় ছিলাম দুপুরে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঐ বাসার নিচে ২ গাড়ি পুলিশ!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জুলাইয়ের চে-ময়ী জার্নির এ কেমন পরিণতি!

জুলাইয়ে দল-মত নির্বেশেষে ছাত্র-তরুণদের যে ঐক্য সংঘটিত হয়েছিল, সেই ঐক্য কোন অংক কষে হয়নি। ঐক্য প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমর বলছিলেন, লড়াই করতে করতে ঐক্য হয়। ফলে— তরুণদের মধ্যে সংগঠিত ঐক্যে চে'র  ' Motherland or Death ’  থেকে কল্পনা চাকমা’র   " Everything that is experimented on the Hills, will be implemented on the plain lands "   প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে। এই প্রাসঙ্গিকতা সহজত ভাবেই বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর আগামীদিনের জন্য বিপদজনক। দেশের ছাত্র-তরুণরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, সহ-নাগরিকদের প্রতি সহমর্মী-সমব্যাথী হয়; জন্মভূমি প্রশ্নে আপোষের বদলে সংগ্রাম, প্রয়োজনে মৃত্যুকে বাছাই করতে দ্বিধা না করে— দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে বেগম পাড়া, ব্যাংক পাড়া কী ভাবে সম্ভব হবে? ভারত/ আমেরিকার তাবেদারি করে কিভাবে একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হবে? কিভাবে ক্ষমতায় থাকার শেকড় পোক্ত করতে দেশ বিদেশে যা তা সম্ভব হবে! কিভাবে বাজার সিন্ডিকেট রেখে জনজীবন নাস্তানাবুদ করে ফেলা যাবে! ফলে এই ঐক্য ভেঙ্গে দিতে হবে, এই যুদ্ধংদেহী তরুণদের সমস্ত স্বপ্ন আকাঙ্খা ভেঙ্গেচুরে ফেলতে হবে। তাতেও ঝামেলা আছে। লড়াইয়ের ধর...

এনে দিবো অপার স্বাধীনতা

অনেক প্রতিশ্রুতি পাওয়া জীবনে রয়েছে বেখাপ্পা ছেনাল ছাগলের ভীষণ যন্ত্রণা, ছাগলে খাওয়া গাছের আগা নাকি আর বাড়েনা! প্রতিশ্রুতিগুলাও তাই ছাগলের মুখেই শেষ, আমি তাই আর বিশ্বাস করিনা আমি তাই আর কতৃপক্ষে বিচার চাইনা আমি তাই আর ঘুমাতে পারিনা। গত সব শব প্রতিশ্রুতির ভঙ্গুরতা আমাকে ঘুমাতে দেয়নি! এই ভেবোনা; আমার বরং ঘুম হয়নি একটা পথের খোঁজে। একটা পথ খুঁজছি আমি, যে পথে হেঁটে গেলে কবিতার কিতাব হাতে চোখে লাল রঙের চশমায় পায়ে গত বর্ষায় টিকে যাওয়া আধছেঁড়া স্যান্ডেলে মৌন কোনো মিছিল সমেত, অথবা কবিতার গুঞ্জন কন্ঠে... আমি তুমি আমরা সবাই! খুঁজে পাবো স্বস্তি খুঁজে পাবো রাত ঘুম ফিরে পাবো দুপুরের ভাত ঘুম আর অপার স্বাধীনতা। মোরগডাকা ভোর শুনতে পাবো আবারো আরো একবার এই নগরীর প্রত্যেকটা স্বার্থপর দেয়াল খসে গিয়ে!! সেইরকম একটি পথের খোঁজে আমি ঘুমাতে পারিনি। আমার লাল চউখে ভয় পেয়োনা প্রিয়তমা এই চউখ তোমাকে এনে দিতে চায় অপার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চায় কথা বলার মত প্রকাশের অধিকার; দ্যাখো একদিন তোমারে মাঝ রাতের ঘুমে রেখে নির্ঘুম আমি — হেঁটে হেঁটে চলে যাবো বহুদূর তারপর সমস্ত হাঁটা পথ শেষে বিজয়ী আমি তোমাকে শুনাতে গল্পকথা আবার ফিরে...

শরীফ ওসমান হাদী ও আমার টাইমলাইন

o S d e s p n o r t   7 6 4 l 6 M 3 m e 9   b 8 t m 2 a e a 0 1 9 u : P 5 u 1     3 9 D 5 e h h 1 t f r f 2 c g 1 4 1 m a   · Shared with Only me গতকাল তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে। আজ হাদীকে গু/ লি করা হলো। o S d e s p n o r t   7 6 4 l 8 M 3 m e 9   b 8 t m 2 a e a 0 1 9 u : P 5 u 1     3 9 D 5 e h h 1 t f r f 2 c g 1 4 2 m a   · Shared with Only me আপনার আমার লাসের উপর দিয়ে, অনিরাপদ পরিস্থিতি পুঁজি করে সাদিক কায়েমরা অভ্যুত্থান করবে। আলহামদুলিল্লাহ সাইফুর রূদ্র s t r o n S p o d e r g b t a 5 c 4 i h 7 : e 6 1 1 t g 9 6 2 t 7 4 e     h M f 3 P   i m 0 D 0 a 7 7 2 6 7 4 e   4 6 6 m   · Shared with Public হাদীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গুলি করে হ/ত্যাচেষ্টায় যুক্ত সকলকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানাই। e r o p d o S n t s 1 M 5 g e 0 l m i b 0 D 1 5 t 2 5 a e : 0 1 r 6 P 6 a 2 f     c 5   g   6 1 h 6 a g 6 4 a 8 e 9 f t 3   · Shared with Public আমি-আপনি-আমরা... সাইফুর রূদ্র s S o p n t o ...