সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অভ্যুত্থান হলো, হয়াট ইজ নেক্সট!

৫ আগস্ট, ২০২৪ ইং তারিখে  পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পরে সারাদেশের ছাত্র-জনতা। সেদিন চট্টগ্রাম নিউমার্কেট মোড়ে পৌঁছে দেখি, মিষ্টি-জিলাপি সহ যে যার মতন মিষ্টিমুখ করাচ্ছে। বলাবাহুল্য আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদী রেজিম সম্পর্কে ধারণা রাখি, তাঁরা সকলে জানতাম এ বিজয় প্রাথমিক বিজয়। আগামীর প্রতিটি মূহুর্ত সতর্ক পদক্ষেপ এবং সম্ভ্যাব্য সকল অস্থিতিশীলতা ঠেকিয়ে ফ্যাসিস্ট রেজিম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণ এর রাষ্ট্র-সংবিধান ও সরকার প্রতিষ্ঠা করার লড়াই শুরু হল মাত্র! একইসাথে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া কিংবা পদত্যাগের পর থেকেই জনগণ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করবে। বলাবাহুল্য, নিউমার্কেট মোড়ের বিজয়ী অবস্থান সমাপ্তি ঘোষণা করাে প্রায় ২২ দিন পর নিজ বাসায় ফিরে সে রাতেও ঘুমাতে পারিনি। নানা গুজব মোকাবিলা করতে হয়েছে। পরদিন থেকে মন্দির পাহাড়া, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সমন্বয় করতে না করতে উপস্থিত হলো স্মরণকালের অন্যতম বন্যা। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার, পরিবর্তন সংক্রান্ত আলাপ আলোচনাও অনেকখানি স্থবির হয়ে পরল। এমনকি আবেদনও হারিয়ে বৈষম্য দূরীকরণের থেকে অনেক ভিন্ন বিষয় গুরুত্...

রাত কিংবা বিকেল

  রাত || সাইফুর রূদ্র . হুট করে নেমে আসা বৃষ্টি দ্যাখছো! দ্যাখলে জানো বৃষ্টির স্থায়ী বন্ধু হয়না। এ আকাশ আকাশ ছাড়িয়ে যাবো এক বিমূর্ত বেলায় হয়ত মিথ্যা কোন বাহানায়। কেউ কথা দেয়নি কখনোই অপেক্ষা প্রতীক্ষার সাথেও হয়নি দ্যাখা, অন্য একটা রাত নেমে আসছে পৃথীবির বুকে খুব ধীরে অথচ নিশ্চিতরুপে। অন্ধকার সময়ে বা সময়ের অন্ধকারে এমন একটা রাত কিংবা বিকেল রোহিঙ্গা, হিন্দু, মুসলিম মিলেমিশে একাকার, এরকম একটা রাত খুঁজে নিবোই, দিও বিদায়। . সেপ্টেম্বর ১১,২০১৭

লোকটা প্রধানমন্ত্রী হবে না

অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত হচ্ছে মর্মে ক্ষমা করে দিই, হাতগুলারে নিশপিশ করতে দিইনা, কারণ সে রাষ্ট্রীয় অভিভাবক তার ইশারায় জ্বলে-নিভে  ভিআইপি লাইট নাখোশে নিখোঁজ গুম হাজারো লোক। কেউ রাজনৈতিক কর্মী কেউ কেউ নিখাদ সময়ের ফাঁদে আটকে যাওয়া লোক হবার কথা শুধুই সংসারী অন্তত নিপাট সহজ সরল চাকুরে, ভাগ্যের পরিহাসে মিছিলে আটকে যাওয়া চোখ স্লোগানে মিলিয়ে যাওয়া কন্ঠস্বর, ফ্যাসিবাদের নাখোশলিপিতে নাম উঠায় যদিওবা তার প্রধানমন্ত্রী হবার কথা নয়! তবু আটকে যায় আজরাইলের ফরোয়ানি তালিকায়। কেউ লেখক সাংবাদিক আরো নানা কিছিমের লোক এদের সন্তানেরা বৌয়েরা মায়েরা ঘুমাতে দেয়না চোখের আলো কবে কোন রাতে আবার এসে থামে শাদা গাড়ি দরজায় নক করে বলে! 'লোকটা প্রধানমন্ত্রী হবে না তাই ছেড়ে গেলাম।' কি বিচ্ছিরি অবস্থা তৈয়ার হলে ফ্যাসিবাদ কত গভীরে চেপে বসলে রাষ্ট্রীয় অভিভাবক মান্যবর প্রধানমন্ত্রীর কথা ভেবে এইটুকুন বাচ্চার চোখে বৃষ্টি নামে, কতদিন বাবা তারে ছোঁয় না চকলেট দেয়না বকে না জড়িয়ে ধরেনা আদর করেনা ভালোবাসি বলেনা! এত দুঃখখ বাচ্ছাটিরে দিলে! অথচ তারও প্রধানমন্ত্রী হবার কথা নয়। সেও বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেনা। অগ্নিকুন্ড প্রস্তুতু হচ্ছে...

কনসাইন্সের বিজ্ঞান

দুনিয়ার সমস্ত ঝাউরগামিতেও কিছু ভালো জিনিস থাকে। যেমন ধরেন, কোন কোর্সে পড়ছি ভুলে গেছি, তয়্ লেখা ছিল— একজন Law Student এর মধ্যে তিনখানা ঘর থাকা লাগবো। ১. Justice, ২. Equity ৩. Conscience... এইটা ব্রিটিস ঝাউরগা দের দেয়া আলাপ, মানদন্ড। এই তিনখানা জিনিসওয়ালা মালের দেখা আমি পাইনাই। বিবিধ দেশি এবং বিদেশি ল পড়া দুএকজনরে চিনি তাদের মধ্যেও এই মালগুলি নাই। আমি যাদের কথা কইতেছি, তাদের মধ্যে সবচে অযোগ্য ও নাখাস্তা পাবলিকটা হইলাম আমি। ফলে আপনি ধইরা নিতে পারেন যে, এই লোক হুদাই নিজের দুখখ আউড়াইতেছে। অফেন্সিভ হইবনা বলে পণ করিয়াছি। যাই হউক, আমি ক্যান নাখাস্তা ও ফাউল এবং আমার আইন পড়ুয়া ভাই আপা খালু খালারা ক্যান এই তিনখানা জিনিস আত্মীকরণ করিতে সক্ষম হয়না, তার কারণ হইল আমাদের প্রায় সকলের জীবন যাপন ও ভিশন, এমনকি বলা ভালো প্রায় সমস্ত কিছুই মিথ্যে ও লোভের উপর প্রতিষ্ঠিত। লোভ ও মিথ্যের উপর খাড়ায়া জাস্টিস চাওন যায়না, ইকুইটির আলাপ ফারা যায় না, কনসাইন্স কাজ করেনা। ফলে মিথ্যার মেঘাবরণ কেমনে কাটাইবে জনপদ সে জানে কেডা আমি জানিনা। শাসকগোষ্ঠী এদেশে এত মাত্রিক নিপীড়ন চালাইতে পারার শক্তি পাইতে এখানে স্বাধীনতার পর পর ই ম...

ইস্তফা

এক দাঁতের ঝামেলায় পরে সমস্ত জীবনীশক্তি, উদ্যম, সাহস ও আত্মবিশ্বাস হারায়া ফেলছি।এরপর থেকে যা করছি, ভবিষ্যতেও যা করব— ঠেকায় পরে করতেছি, ঠেকায় পরে করব। স্বপ্ন নিয়া আমি আর কিছু করতে পারতেছিনা, করার বৃথা উদ্যোগও নিবনা। সোলায়মান সুখনদের দেশে আর শেখ মুজিবের বাংলাদেশে বহু গাল মারা যায়। কুত্তার জীবন যাপন করার চে, ভূতের জীবন আমার মতে উত্তম। মানুষ জীবন একটাই, এটা ঠিক। কিন্তু পৃথিবীতে নাকি ৫শ কোটি মানুষ বসবাস করে। একজন মানুষ জীবনের লোভে প্যারা না নিয়া ভুতের জীবন বাইছা নিলে বেশি ক্ষতি হবেনা। এদেশে কুত্তার জীবন যাপন করবেনা বলে, এত করাপশন, এত চুতিয়াগিরি, এত মাদারসোদি। জীবন চক্রটাই আমার কুত্তার জীবন। এই জীবন চক্ররে আমি চিনতাম না, কারণ বিগত জীবন দৌড়ের উপর ছিলাম। দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমি চিল করে গেছি। শেষ প্রেমখানি করে জীবনের স্বাদ পাইয়া নিজের জীবনের দিকে তাকায়ে দেখি দাঁত ক্ষয় হয়ে যাওয়ার মতন জীবনও ক্ষয়প্রাপ্ত। এই জীবনে অনুপযুক্ততাই শেষ কথা। গাল মেরে লাভ নাই। এইটা বিষন্নতা না। ডিফ্রেশন না। এটা হেরে যাওয়া। আমার কারো কাছে মাপ চাওয়ার নাই। একজনের কাছে আছে, সেই একজনের কাছে মাপ চাওয়াটা হবে ঔদ্ধত্যতা। কি জানি বলত...

অচীন কোন আকাশ

আগস্ট ১৩/২০১৯ আমার শহর ছেড়ে যাওয়া তুমি খেয়াল করে দ্যাখছো ত ক্যামন মুখ ভার আকাশের! ইচ্ছে খুশিতে ইচ্ছের রঙফুল মেখে ফিরে এসো হাসিমুখে ফিরে এসো ভালোবেসে। এখানকার সমস্ত মেঘ তোমার অপেক্ষায়, ফিরলে তুমি পরবে ঝড়ে সকল মুক্তামালা ফিরলে তুমি জোনাক আলোয় সাজবে চারপাশ ফিরলে তুমি নিশুথি রাত হবে সর্বনাশ। আগস্ট ১৪/২০১৯ কত রাতে কত রঙের বৃষ্টি নামে কই এমন স্পর্শ ত পাইনি, এতটা আকুলতা এতটা বিরহ কই ছুঁয়ে ত দেয়নি। অজস্র নিসঙ্গ রাত একা একা হেঁটে গ্যাছি বৃষ্টিতে ভেজা পথ পায়ে মাড়িয়ে, কোথাও কোনো খোলা জানালা অস্তিত্বে রঙ মাখাচ্ছে অথবা বিষাদ এতশত ভাবিনি। তুমি পেরিয়ে যাচ্ছ প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে আমার শহর, যেন সরে যাচ্ছি ভারী অসাড় হয়ে, আমার চোখ ঘুমহীন হয়ে তাকিয়ে থাকে ক্রমাগত বাড়ন্ত দূরত্বে। আবার কবে আসবে — তবে? সুখের বৃষ্টি নামবে আমার শহরে, আমি দূরের কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে তোমাকে ছুঁয়ে থাকার বাহানায় খোলা কোনো জানালা পেরিয়ে তোমারি অন্ধরের অন্দরমহলে।। ১৪/০৮/১৯ ক্রমাগত বাড়ন্ত দূরত্বে ছেয়ে আছি ঠিকই তুমি সরে যাচ্ছ প্রতিনিয়ত তবু দ্যাখো দ্যাখো চোখের বন্ধ দুয়ারে আমি ঠিক তোমার পাশেই খোলা জ...

তীর্ণ — কে

১. জানো ত্ তীর্ণ এই যে শহর তুমি রোজ আপোষ করো এ শহরে তুমি ভাড়াটিয়া—তাও উৎপাদনীয় নও, যে বিদ্যাপীঠ তুমি রোজ নিজেরে ছাপাও এই বিদ্যাপীঠো তোমায় ঠিকই্ তাড়ায়ে দিবে, স্বল্পক্ষয়ী এ জীবন এমনকি যৌবনও! এসো 'এ' ধরায় রয়ে যাবে চিরকাল সকল সৌন্দর্য, লুপে নিয়ে সুযোগটুকু টিকে থাকো। জানো ত্ তীর্ণ লুটপাটে ভেসে যাচ্ছে সমস্ত শহর নাগরিক এ লুটপাটে তুমিও দখল হয়ে যাবে তাও আবার ভাড়াটে মাস্তানে। তীর্ণ এখন — যুদ্ধো মানেই জীবন টিকে থাকার যুদ্ধে আপোষ করে হয়ে যেতে হয় শয়তানের বর খেলাপ। যুদ্ধ যেহেতু করতেই হয় — লুপে নাও সুযোগ।। (২৭ জুন/২০১৯) ২. তীর্ণ তোমারে আমি মেঘ হতে বলি কেন জানো! দ্যাখো — মেঘ হওয়া সহজ কিছু নয়, সমস্ত হওয়া অথবা পসেসিভনেসের ভয়াল দিক হইল আমরা নিজেদের মেরে ফেলা একে অন্যে! অথচ মেঘ হলে ছুঁয়ে থাকা যায়, ছুঁয়ে থাকাই ভালোবাসা জেনে রাখো, যদি কখনো তোমার আমার সত্যিই দেখা বা দ্যাখা হয়ে যায় অথবা দ্যাখতেই হয় প্লিজ গ্লাসের আড়ালে একটুকুন মেঘ রেখো যেন থমকে যাই যেন উঠে দাঁড়ায়ে চোখ মুখ ধুয়ে আসতে হয় গায়ে জ্বরেরধাক্কায়, ভালোবাসতে হলে ছুঁয়ে থাকার মতোন আটকে থাকতেও হয় আটকে থাকতে ধাক্কার প্রয়োজন হয় তীব্র কোনো ধাক্কা, যেন ...