সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তীর্ণ — কে

১. জানো ত্ তীর্ণ এই যে শহর তুমি রোজ আপোষ করো এ শহরে তুমি ভাড়াটিয়া—তাও উৎপাদনীয় নও, যে বিদ্যাপীঠ তুমি রোজ নিজেরে ছাপাও এই বিদ্যাপীঠো তোমায় ঠিকই্ তাড়ায়ে দিবে, স্বল্পক্ষয়ী এ জীবন এমনকি যৌবনও! এসো 'এ' ধরায় রয়ে যাবে চিরকাল সকল সৌন্দর্য, লুপে নিয়ে সুযোগটুকু টিকে থাকো। জানো ত্ তীর্ণ লুটপাটে ভেসে যাচ্ছে সমস্ত শহর নাগরিক এ লুটপাটে তুমিও দখল হয়ে যাবে তাও আবার ভাড়াটে মাস্তানে। তীর্ণ এখন — যুদ্ধো মানেই জীবন টিকে থাকার যুদ্ধে আপোষ করে হয়ে যেতে হয় শয়তানের বর খেলাপ। যুদ্ধ যেহেতু করতেই হয় — লুপে নাও সুযোগ।। (২৭ জুন/২০১৯) ২. তীর্ণ তোমারে আমি মেঘ হতে বলি কেন জানো! দ্যাখো — মেঘ হওয়া সহজ কিছু নয়, সমস্ত হওয়া অথবা পসেসিভনেসের ভয়াল দিক হইল আমরা নিজেদের মেরে ফেলা একে অন্যে! অথচ মেঘ হলে ছুঁয়ে থাকা যায়, ছুঁয়ে থাকাই ভালোবাসা জেনে রাখো, যদি কখনো তোমার আমার সত্যিই দেখা বা দ্যাখা হয়ে যায় অথবা দ্যাখতেই হয় প্লিজ গ্লাসের আড়ালে একটুকুন মেঘ রেখো যেন থমকে যাই যেন উঠে দাঁড়ায়ে চোখ মুখ ধুয়ে আসতে হয় গায়ে জ্বরেরধাক্কায়, ভালোবাসতে হলে ছুঁয়ে থাকার মতোন আটকে থাকতেও হয় আটকে থাকতে ধাক্কার প্রয়োজন হয় তীব্র কোনো ধাক্কা, যেন ...

তুমিও প্রতিক্রিয়াশীল

আমারে ফেলে দিয়ে তুমি আমার কবিতা পড়ো! আমি অবাক হই না, আমারে নিয়া চিন্তাশীল হয়ে উঠো আমি অবাক হই না জেনে তুমিও প্রতিক্রিয়াশীল। গত বসন্তের শেষে বৈশাখের শুরুর দিন। ছিলনা কোনো ঝড় অথবা কালো মেঘ তোমার চোখে অদ্ভুত রঙের চশমা আমি কাজল খুঁজে নিতে গিয়ে বুঝি এটা সেই মেঘ! এটা সেই মেঘ - যারে আমি ভয় পেয়ে তোমার কাছে গিয়েছিলাম। এরপর কি হয়েছে জানো? তুমি একবারো কি ভেবেছ — লক্ষ্মীছাড়া আমি তোমায় কি এমন ভেবে দেবী নামে ডেকেছিলাম! সারাদিন গায় জ্বর নিয়া ঘুরা আমি ভীষণ কাতর হয়ে উঠতাম তোমার পাশে বসে, রাত নামতে নামতে উঠে যায় গভীর নিশীতে তখন আমি বুকে ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে একজন মানুষ খুঁজতাম যারে বলা যায় "কি করো, কেমন আছো? একটু কথা বলতে বলতে ভুলে যাই মরণ কামড় আমার জন্মের পীড়া জন্মের কালো দাগ, ঘুমায়ে গিয়ে স্বপ্ন করি বিতর্ক উৎসব। . পটিয়া পৌরসভা - বিজিসি। ১৯/০৫/২০১৮ • ২:১৯পম

নেশা

নেশা এক অদ্ভুত ঋণাত্মক অনুভূতি। হউক, সেটা সিগারেট, হউক সেটা দূরের কোন আকাশে উড়া পরিচিত এক পাখির ডাক।। অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া সময়ের অনুপস্থিতে নেশাতুর আমি শেষমেশ সিগারেট খুঁজি চারপাশে সবগুলা খালি প্যাকেট এ্যাশট্রে থেকে উড়ে আসা উটকো গন্ধ, আমার ভীষণ গায়ে জ্বর আমি শুয়ে থাকি সারারাত হালকা ফ্যান চালিয়ে কখনো বাড়িয়ে কখনো কমিয়ে কোলবালিশে জড়িয়ে ধরি নিজেকে পেটের শেষ এক পাশের তুমুল ব্যথা সড়াতে, আমাকে ঘুমাতে দেয়না সারারাত আমি চটপট করি; তবু রাতের ঘুমের হিসাবে দো'রেখা পরলে আমার মনে পরে ঘুমের ঘোরে খোঁজা মুখ তারপর কষ্ট আরো বাড়ে চিনচিনে ব্যথা নয়ত অসাড় হয়ে যাওয়া তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে খুঁজে বেড়ানো তুমি কই — কই তুমি, তুমি একটা অস্তিত্বের নাম তুমি একটা নেশার নাম তোমাকে নাম দিয়েছি চন্দাশ্রী, আমার ভীষণ জ্বরে পাশ বালিশে খোলা চুল মেলে দিও অনেক রাত আমি ঘুমাতে পারিনা আমাকে ঘুমাতে দিও।। #চন্দাশ্রী #রূদ্র।

সিজদা

শূন্যতা পূর্ণ হবার নয় তবু কি নিদারুন অপেক্ষা। কথার গুঞ্জন কথার ডালপালা বানায় নিজেরা নতুন কথা হয় হাসে — প্রচন্ড বাজে হাসি ভেঙ্গে যায় সকল আয়না।। তবু হাসির পিঠে হাসি গড়ায় দুনিয়ার সকল খারাপ মানুষ এক হয় এক সুরে গান গায় - কথা কয় ভালো মানুষ তাদের ভিড়ে সিজদায় খুঁজে নিজেদের ভুল। সিজদায় মানুষ একা থাকে ঈশ্বরের মুখোমুখি নুয়ে। সিজদা শেষ অপরসীম প্রশান্তি লুকায়ে ফেলে দ্রোহ ক্ষুধা ও যন্ত্রণা, কথা বলা হয়ে উঠেনা কথার বিপরীতে, অথচ কথা বলে উঠার শব্দ করতে না পারার ব্যর্থতায় কথারা আমাদের আঘাতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে। সামনে তাকাই, ধূ ধূ মরুভূমি সামনে তাকায়ে মরীচিকায় প্রাণের গান শুনি প্রতারিত নয়ন ক্লান্ত হয়ে দোষারোপে লীন হয়ে শেষমেশ আমরা আত্মহত্যার কথা বলি।। ২৭ আগস্ট ২০১৯

নার্সিসিজম

আত্মমৈথুনে আমি বাড়িয়ে ফেলি বিষাদ যাতনা; আমি যাই ষোড়শী প্রেমিকার কাছে ভুলে যেতে পৃথিবী ও ঈশ্বর! সে আমারে চুমু দিয়া ফেরত পাঠায় আবারও পৃথিবী এক বিজন দ্বীপ। আমার যাওয়া উচিত ছিলো সাগরের কাছে তার ঢেউয়ের কাছে আমাকে করা সমর্পন! অথবা যুবতী নারীর চোখে চোখ ফেলার বলার দরকার ছিলো আসুন ভুলে যাই; এই ফাঁকে আমি ভুলে যেতাম গত জীবন। আমার আর ভুলা হয়না কিছু না যাইতে পারি সাগড় পাড় না খুলতে পারি যুবতীর দ্বার! আটকে গেছি ষোড়শীর দেবী দেবী চোখে। প্রথম দু্র্গা দেখেছিলাম বারো বয়সে টানা টানা গোল চোখে সবাই তার সন্তান! নাচিচে ঈশ্বর নাচিচে মানব সন্তান ; ফাঁকে পরে আমি বিধর্মী আটকে যাই। সেই যে দেবী বিদায় দিয়েছিল! বিসর্জন উৎসবে, সাথে ফিরার ও কথা; ভয়ে আমার হিন্দুপাড়া পা মাড়ানো হয়নি; তবে আটকে গেছি ঈশ্বরী কন্যার চোখে আর ছাড়াছাড়ির মতো অবান্তর কিছু হয়না বেচারা আমি আটকে গেছি খালি পায়ে; খালি পায়ে — ও চোখ জোড়া মাড়ায়ে যাওয়ার সাহসও নেই আমার। আমি আবার ফিরে আসি আত্মমৈথুনে; লিখতে থাকি দু থেকে একুশ দুটো সংখ্যার পরে সবই শূন্যতা।।

এনে দিবো অপার স্বাধীনতা

অনেক প্রতিশ্রুতি পাওয়া জীবনে রয়েছে বেখাপ্পা ছেনাল ছাগলের ভীষণ যন্ত্রণা, ছাগলে খাওয়া গাছের আগা নাকি আর বাড়েনা! প্রতিশ্রুতিগুলাও তাই ছাগলের মুখেই শেষ, আমি তাই আর বিশ্বাস করিনা আমি তাই আর কতৃপক্ষে বিচার চাইনা আমি তাই আর ঘুমাতে পারিনা। গত সব শব প্রতিশ্রুতির ভঙ্গুরতা আমাকে ঘুমাতে দেয়নি! এই ভেবোনা; আমার বরং ঘুম হয়নি একটা পথের খোঁজে। একটা পথ খুঁজছি আমি, যে পথে হেঁটে গেলে কবিতার কিতাব হাতে চোখে লাল রঙের চশমায় পায়ে গত বর্ষায় টিকে যাওয়া আধছেঁড়া স্যান্ডেলে মৌন কোনো মিছিল সমেত, অথবা কবিতার গুঞ্জন কন্ঠে... আমি তুমি আমরা সবাই! খুঁজে পাবো স্বস্তি খুঁজে পাবো রাত ঘুম ফিরে পাবো দুপুরের ভাত ঘুম আর অপার স্বাধীনতা। মোরগডাকা ভোর শুনতে পাবো আবারো আরো একবার এই নগরীর প্রত্যেকটা স্বার্থপর দেয়াল খসে গিয়ে!! সেইরকম একটি পথের খোঁজে আমি ঘুমাতে পারিনি। আমার লাল চউখে ভয় পেয়োনা প্রিয়তমা এই চউখ তোমাকে এনে দিতে চায় অপার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চায় কথা বলার মত প্রকাশের অধিকার; দ্যাখো একদিন তোমারে মাঝ রাতের ঘুমে রেখে নির্ঘুম আমি — হেঁটে হেঁটে চলে যাবো বহুদূর তারপর সমস্ত হাঁটা পথ শেষে বিজয়ী আমি তোমাকে শুনাতে গল্পকথা আবার ফিরে...

কথা না হওয়ার কথা

আমাদের কথা হওয়ার কথা ছিলো সিগারেট শেয়ার না করলেও, আমাদের চা খাওয়ার কথা ছিলোে আধ খাওয়া চা গিলে না নিলেও, কথা ছিলো তোমার পায়ের কাছে গড়ে উঠবে মন্দির আর আমি প্রেমিক হতে পারি বা না পারি সস্তা পূজারী হব অন্তত।   এমন কথা মানুুষের থাকেই; মানুষ মূলত উন্নত স্তনের পূজা করে বেড়ালেও হাতে চাই কুমারী স্তন অথবা কিছুটা সুডৈাল; এক্সপেক্টেশন রেখোনা পুরুষ মূলত পার্ভাট; আর তাই আমার ইচ্ছে ছিল ব্রণমুখী আমি বিষন্নতায় কাঁপতে কাঁপতে  তোমার কাছে খুঁজে নিব হারানো শৈশব; অথচ তুমি চলে যাবার পর মনে হলো আমি কিছুটা পার্ভাট হলে মন্দ হতোনা এই শহরের কোনো এক ডার্ক রেস্টুরেন্টে  অন্তত আলো খুঁজে পেত প্রেম, মাঝ দুপুরে ‍কোনো এক গলির রিকশায় ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়া উঠতাম। এরপর থেকে তোমাকে  আমার ভীষণ বাচ্ছা মনে হয়; কিছুটা বড়সড় হইলে তোমারে হয়ত আমার প্রেমিকা মনে হতো অথবা ব্যস্তদুপুরের ক্লান্তি ভ্রম; অন্তত তোমার পায়ে মন্দির দ্যাখতাম না।